মুঘল শাসন (১৫২৬-১৮৫৭)
জহির উদ্দিনি মুহম্মদ বাবুর
(১৫২৬-১৫৩০ সাল)
জহির উদ্দিন মুহম্মদ সাহসিকতা
ও নির্ভীকতার জন্য ইতিহাসে বাবুর
নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। বর্তমান রুশ-তির্কস্তানের অর্ন্তগত ফারগানায় বাবুরের জন্ম।
তিনি পিতার দিক হতে তৈমুর লঙ এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিরেন। বাবুর
মঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা্ তুযক-ই-বাবুর বা বাবুরের আত্মজীবনী নামক গ্রন্থে বাবুর
তার জীবনের জয়পরাজয়ের আমইতিহাস অতি সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।
পানিপথের প্রথম যুদ্ধঃ
প্রতিপক্ষঃ বাবুর ও ইব্রাহিম লোদী
সময়কালঃ ১২ এপ্রিল,১৫২৬।
স্থানঃ দিল্লীর অদূরে যমুনা নদীর তীরে পানিপথ প্রান্তরে।
ফলাফলঃ বাবুরের উন্নত রনকৌশল ও যুদ্ধাস্ত্রের কারনে ইব্রাহিম
লোদী পরাজিত ও নিহত
হন। দিল্লীর সালতানাতের পতন হয় এবং উপমহাদেশে মুঘল সম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয় ।
বাবুর এই যুদ্ধে কামান ব্যবহার করেন। এটি ভারতের ইতিহাসে কোন যুদ্ধে প্রথম কামান ব্যবহার
।
খনুয়ার যুদ্ধঃ
প্রতিপক্ষঃ বাবুর ও রাজপুত বীর রানা সংগ্রাম সিংহ।
সময়কালঃ ১৫২৬।
ফলাফলঃ রানা সংগ্রাম সিংহ পরাজিত এবং বিতাড়িত হন। উপমহাদেশে
মুঘল শক্তি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ূন(১৫৩০-১৫৪০)
বাবুরের মুত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠ প্রত্র হুমায়ুন দিল্লীর সিংহাসনে
আরোহন করেন। ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট হুমায়ূন বাংলা প্রবেশ করেন এবং গৌড় অধিকার করেন্
তিনি গৌড় নগরের অপরুপ সৌন্দর্য এবং এর অপরুপ জরবায়ুর উৎকর্ষ দেখে মুগ্ধ হন্ তিনি গৌড়
নগরীর নাম পরিবর্তন করে জান্নাতাবাদ রাখেন্ তিনি বাংলায় আটমাস অবস্থান করে দিল্লীর
দিকে যাত্রা করেন । কিন্তু পথিমধ্য বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরশাহ হুমায়ুনকে
অতর্কিত আক্রমণ করেন। চৌসারের যুদ্ধে(১৫৩৯ সাল)পরাজিত হয়ে হুমায়ূন কোনক্রমে প্রাণ নিয়ে
দিল্লী পৌছেন। পরের বছর (১৫৪০ সাল) শের শাহের বিরুদ্ধে আবার অভিযান পরিচালনা করেন।
কিন্তু কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে তিনি আবার পরাজিত হন। বিজয়ী শেরশাহদিল্লীরসিহাসনে
আরোহণ করেন। শেরশাহ ভারতে পাঠান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। পারস্য সম্রাটের সহায়তায় হুমায়ূন
১৫৫৫সালে পুনায় দিল্লী দখল করেন। ১৫৫৬ সালে দিল্লীর অদূরে তার নির্মিত দীন পানাহ দূর্গের
পাঠাগারের সিড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তার র্মত্যু হয়।
No comments:
Post a Comment